২৮ মে ২০২৬, ১৮:৩৫

মার্কিন হামলায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান নিহত?

সলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর নতুন প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি আজমাই  © সংগৃহীত

ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর নতুন প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি আজমাই জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইরানে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, মার্কিন সেনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হতে পারে—এমন একটি লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী গ্রুপ ‘ইরান ওয়াচার’ জানিয়েছে, এখনও নিশ্চিত নয় এমন কিছু প্রতিবেদন বলছে, বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার সময় আলি আজমাই লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন এবং সম্ভবত নিহতও হয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।

আলি আজমাইকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি আগে বাহিনীর ৫ম নৌ অঞ্চলের প্রধান ছিলেন, যা আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর কার্যক্রম তদারকি করত। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ।
 
এখন পর্যন্ত আইআরজিসি তার নিহত হওয়া বা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবর নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, খবরটি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

এর আগে সংঘাতের সময় আইআরজিসি নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত হন। এরপর থেকেই বাহিনীতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছিল এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলি আজমাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের প্রধান নৌঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই বন্দরনগরী। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল পরিবহন হয়।
 
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর আরও একজন শীর্ষ কমান্ডারকে হারালে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও কমান্ড কাঠামোয় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের ভয়ও জোরালো হতে পারে।