২৫ মে ২০২৬, ১৪:১৫

গোপনীয় স্থানে থাকা মোজতবা খামেনি যেভাবে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন

মোজতবা খামেনি   © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন মোজতবা খামেনি। নিরাপত্তার কারণে তিনি এখন একটি অজ্ঞাত ও অত্যন্ত গোপনীয় স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ দূত ও বার্তাবাহকদের জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তার কাছে বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস জানিয়েছে, এই গোপন যোগাযোগব্যবস্থা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারাও সহজে মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তি কিংবা আগের সমঝোতার অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ার অন্যতম কারণ এই জটিল যোগাযোগব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠালে সেটি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। আবার সেখান থেকে জবাব আসতেও বিলম্ব হচ্ছে।

তবে খামেনির অবস্থান কিংবা ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস।

অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত আসতে পারে বলে পোস্ট দেওয়ার আগেই মোজতবা খামেনি বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল কাঠামোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হন মোজতবা খামেনি। যুদ্ধ শুরুর আগে সর্বশেষ তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তিনি আর জনসমক্ষে আসেননি বা কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যও দেননি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, নিজের বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি এখন চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্বে ছিলেন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ভেতর থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির অনেক শীর্ষ নেতাকে শনাক্ত ও হত্যা করেছে। এ কারণেই এখন অধিকাংশ ইরানি নেতা জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন।

কর্মকর্তারা জানান, অনেক নেতা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তিশালী বাঙ্কারের ভেতরে অবস্থান করছেন এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন না।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে, সেটি বোঝার চেষ্টা দেখলে অনেকটা হাস্যরসাত্মক নাটকের মতো মনে হয়। তারা পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছে।’

তবে সব নেতার মধ্যে সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন মোজতবা খামেনি নিজেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাও জানেন না তিনি কোথায় আছেন এবং সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগেরও কোনো উপায় নেই।

তার অবস্থান গোপন রাখতেই বিশেষ বার্তাবাহকদের মাধ্যমে সব তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া না যায়।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ কারণেই প্রায়ই শোনা যায়—সর্বোচ্চ নেতা কাঠামোগত বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন, অথবা চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে তার জবাবের অপেক্ষা চলছে। তার কাছে পৌঁছানো প্রতিটি তথ্যই কিছুটা পুরোনো হয়ে যায় এবং তার জবাব আসতেও অনেক দেরি হয়।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি ইতোমধ্যে তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করা যাবে এবং কোন বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে, সে সম্পর্কেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।