২৫ মে ২০২৬, ১১:৪২

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসাধারীদের ওপিটি জালিয়াতির তদন্ত, নজরদারিতে ১০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী

এফ-১ ভিসা   © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তে প্রায় ১০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে ১২ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এটি বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ও ভবিষ্যতে এইচ-১বি ভিসার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে সাম্প্রতিক তদন্তে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক জালিয়াতি ও অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আইসিই। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লিওনস ওপিটিকে “জালিয়াতির কেন্দ্রবিন্দু” বলে মন্তব্য করেছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে বাস্তবে কোনো কার্যক্রম পাওয়া যায়নি। কোথাও খালি ভবন, কোথাও তালাবদ্ধ অফিস, আবার কোথাও একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের ঘটনাও পাওয়া গেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি। একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছিল মাত্র ৩ জন ওপিটি কর্মী রয়েছে, কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তকারীরা আরও জানান, কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ভারতের যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল—যা পুরো ব্যবস্থাকে আরও সন্দেহের মধ্যে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে চাকরি সংকোচন, নিয়োগ কমে যাওয়া এবং ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পাওয়া এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলকই নয়, বরং অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।