২০ মে ২০২৬, ১৯:৪৭

পার্লামেন্ট বিলুপ্তির বিল পাস, বিদায়ের প্রহর গুণছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু   © টিডিসি ফটো

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আগাম নির্বাচন ও পার্লামেন্ট বিলুপ্তির একটি বিল পাস হয়েছে। বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১১০ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে কেউ ভোট দেননি বলে জানিয়েছেন নেসেট স্পিকার আমির ওহানা।

তবে ভোটাভুটির সময় নেসেটে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকে থাকার কারণে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিলটি পাস হওয়ার পর ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগাম নির্বাচন হলে নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির পরাজয়ের আশঙ্কাই বেশি। এমনকি নির্ধারিত সময়েও ভোট হলেও তাদের জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিলটি এখনো পুরোপুরি আইনে পরিণত হয়নি। এটি কার্যকর করতে আরও কয়েক দফা পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ইসরায়েলে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের মে মাসে। দেশটির আইন অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর। তবে নতুন এই বিল পাসের পর আগাম নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরেই আগাম নির্বাচন হতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না এলে নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি, অর্থাৎ অক্টোবরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পার্লামেন্ট বিলুপ্তির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কট্টরপন্থি ইহুদি দলগুলোর অবস্থান পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে এসব দল নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু চলতি মাসে তারা জানিয়ে দেয়, নেতানিয়াহুকে আর জোটসঙ্গী হিসেবে দেখতে চায় না। এরপর থেকেই আগাম নির্বাচনের দাবিতে সরব হয় দলগুলো।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে আরও দেখা গেছে, শুধু সাধারণ ভোটাররাই নয়, জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যেও নেতানিয়াহুর প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এমন হলেও এখনই জোট ছাড়ছে না শরিক দলগুলো। কারণ এই মুহূর্তে সরকার পতন হলে নির্বাচনের আগে নতুন সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।