১৯ মে ২০২৬, ১৮:১৩

সৌদি আরবে ৮,০০০ সেনা মোতায়েন করল পাকিস্তান

আরব উপদ্বীপে প্রথমবারের মতো সেনা মোতায়েন করল পাকিস্তান  © সংগৃহীত

সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত এক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিতে ৮,০০০ সেনা, এক স্কোয়াড্রন ফাইটার জেট এবং একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এই প্রথম এই সামরিক মোতায়েনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে এল। পাকিস্তানের তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুইজন সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরব যদি পুনরায় কোনো বড় ধরনের হামলার মুখে পড়ে, তবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করতে পাকিস্তান এই শক্তিশালী ও যুদ্ধ-প্রস্তুত বাহিনী পাঠিয়েছে। খবর রয়টার্সের

তবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ মাধ্যম এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলী প্রকাশ না করা হলেও, উভয় পক্ষই অতীতে জানিয়েছে যে— কোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক সুরক্ষাবলয়ের আওতায় এসেছে।

সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান সম্বলিত একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনের সাথে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট। এছাড়া পাকিস্তান দুই স্কোয়াড্রন ড্রোন এবং চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। এই সমস্ত অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনারাই পরিচালনা করছে এবং এর সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে সৌদি আরব। এই বহরে ৮,০০০ সেনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 

চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ৮০,০০০ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও চুক্তিতে রয়েছে, তবে তা ইতোমধ্যে সৌদি জলসীমায় পৌঁছেছে কি না তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

রিয়াদের পক্ষে এই বিশাল সামরিক মোতায়েন এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো যখন ইসলামাবাদ এই যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখছে। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহতের ঘটনার পর পাকিস্তান এই জেটগুলো পাঠিয়েছিল, যাতে রিয়াদ বড় ধরনের কোনো পাল্টা হামলা চালিয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে না দেয়। পরবর্তীতে অবশ্য রিয়াদের পক্ষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু অপ্রকাশিত পাল্টা হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। 

দীর্ঘ সময় ধরেই পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে, যার বিনিময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে রিয়াদ ইসলামাবাদকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছে।