১৯ মে ২০২৬, ১৬:৪২

মসজিদে হামলা চালিয়ে ৩ মুসল্লিকে হত্যা অতপর...

ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় মসজিদে আততায়ীর বন্দুক হামলা  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে অবস্থিত একটি ইসলামি সেন্টারে (মসজিদ) ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নিরাপত্তা রক্ষীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে একটি ‘ঘৃণা ছড়ানো অপরাধ’ বা ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার পর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন তরুণ নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই হামলার তদন্তে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়ে একটি বিশেষ ‘টিপ লাইন’ চালু করেছে। খবর গার্ডিয়ানের

পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে জোহরের নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট ওই এলাকায় এলাকায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’-তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সন্দেহভাজন এক তরুণের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে এবং ঘরের বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গাড়ি নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ যখন ওই তরুণ ও তার এক বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইসলামিক সেন্টার থেকে তাদের কাছে জরুরি ৯১১ কল আসে।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত মসজিদে পৌঁছে তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই সময়ে দুই ব্লক দূর থেকে একটি চলন্ত গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ার খবর পায় পুলিশ। সেখানে এক মালি মাথায় হেলমেট পরিহিত থাকায় অলৌকিকভাবে গুলি থেকে বেঁচে যান। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘তাঁর বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে এবং নিঃসন্দেহে তিনি আজ বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।’

এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সান ডিয়েগোতে কোনো ধরনের ঘৃণা বা ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামভীতি) স্থান নেই। আমাদের যেকোনো নাগরিকের ওপর হামলা মানে পুরো সান ডিয়েগোর ওপর হামলা।’ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আগে কখনো এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয় কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। আমাদের দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণা এখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজওম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। গভর্নর নিউজওম বলেন, ‘বিশ্বাসের কারণে কোনো উপাসনালয়ে মানুষকে জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে দেওয়া হবে না। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই ধরনের সন্ত্রাসের কোনো জায়গা নেই।’

এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সান ডিয়েগোর পাশাপাশি ১০০ মাইল উত্তরের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউইয়র্ক পুলিশও নিজ নিজ এলাকার সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করেছে।