১৯ মে ২০২৬, ১০:৫৮

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার

ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি   © টিডিসি ফটো

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নিজেই পুলিশে ফোন করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী এবং ১২ ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে পুলিশকে ফোন করার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে তিনটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলার সংক্ষিপ্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন জানান, তার মক্কেল পুলিশ হেফাজতে ‘মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন’। তবে তার অতীত কোনো সহিংসতা বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তানের পূর্ণকালীন পরিচর্যাকারী ছিলেন, যাদের লার্নিং ডিফিকাল্টি ছিল। অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালন করতেন তার স্ত্রী। প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত সহিংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বাড়ি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গেও সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থার পূর্ব কোনো যোগাযোগ ছিল না। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেন এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়রা জানান, নিহত শিশুরা সাধারণত হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাইরে খেলাধুলা করত।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? ওরা তো শুধু শিশু ছিল।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার গার্হস্থ্য সহিংসতা মোকাবেলায় বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই রাজ্যজুড়ে পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শতাধিক গ্রেফতার এবং হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।