১৭ মে ২০২৬, ১৮:২৩

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বাজেট 

জ্বালানির দাম বাড়ায় স্কুল বাসের জ্বালানির খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাখাতে। জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোর বাজেট মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। স্কুল বাস পরিচালনা এবং জেনারেটর চালু রাখার খরচ এতটাই বেড়ে গেছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই আর্থিক ধাক্কা তারা বেশিদিন সামাল দিতে পারবেন না। খবর রয়টার্সের

ওয়াশিংটনের ইয়াকিমা থেকে শুরু করে টেক্সাসের ওয়াকো পর্যন্ত বহু স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কেবল বাস সচল রাখতেই তাদের আপদকালীন জরুরি তহবিল (ইমার্জেন্সি রিজার্ভ) ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে আলাস্কার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোকে ক্লাসরুমের বাতি ও হিটার জ্বালিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বিঘ্নিত হয়েছে, যার ফলে তেলের বাজারে ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম মূল্যবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। আমেরিকান স্কুল বাস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বাসগুলো প্রতি বছর ৮০ মিলিয়ন গ্যালনেরও বেশি ডিজেল ব্যবহার করে। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ডিজেলের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৫.৫২ ডলারে পৌঁছেছে। 

ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সামসারা’-র বিশ্লেষণ বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্কুল বাস পরিচালনার বার্ষিক খরচ প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে, যা আগে থেকে সংকটে থাকা স্কুল বাজেটগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল বিজনেস অফিশিয়ালস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক জেমস রোয়ান বলেন, ‘মূল্যের এই দ্রুত ওঠানামার কারণে নিখুঁতভাবে বাজেট প্রণয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

স্কুল সুপারিনটেনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এএএসএ) অধীনে মে মাসের শুরুতে পরিচালিত ১৮৮ জন স্কুল কর্মকর্তার একটি বিশেষ জরিপে দেখা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অন্য শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বা তহবিল থেকে টাকা সরিয়ে জ্বালানি খরচ মেটাচ্ছে। এছাড়া প্রায় এক-পঞ্চমাংশ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের ‘রেইনি ডে’ বা আপদকালীন রিজার্ভ ফান্ড ব্যবহার করছে। 

খরচ বাঁচাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাস রুটগুলোর একত্রীকরণ, ইঞ্জিন অলস (আইডল) বসিয়ে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ স্থগিত রাখা এবং প্রশাসনিক ব্যয় ও কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ওয়াশিংটন স্টেটের ইয়াকিমা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ট্রেভর গ্রিন জানান, তাদের এলাকায় ডিজেলের দাম গত বছরের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেড়ে গ্যালন প্রতি ৬.৩০ ডলারে ঠেকেছে। এর ফলে তাদের ৬০টি বাস চালাতে বছরে অতিরিক্ত ২ লাখ১৩ হাজার ডলার খরচ হবে, যা প্রায় দুজন শিক্ষকের বার্ষিক বেতনের সমান।

জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকট কেবল স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমকেই ব্যাহত করছে না, বরং তা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক দায় বা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই অর্থনৈতিক ধাক্কা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।