হামাসের সামরিক শাখার প্রধানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা
গাজায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্যবস্তু করে শুক্রবার এক জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজার চিকিৎসা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এক শিশু ও তিনজন নারীসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত এবং কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।
তবে হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হামাস প্রধান হাদ্দাদ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েল বা হামাস—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা যখন স্থবির হয়ে আছে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটল। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সমর্থিত একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার পর থেকে হাদ্দাদই হলেন হামাসের সবচেয়ে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, যাঁকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল এই হামলা চালাল।
২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর গাজা উপত্যকায় হামাসের সামরিক প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ।
এই হামলা প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, হাদ্দাদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং তিনি 'হাজার হাজার ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক এবং সৈন্য হত্যা, অপহরণ ও ক্ষতি করার জন্য দায়ী ছিলেন।'
তবে হাদ্দাদের বর্তমান পরিণতি কী হয়েছে, তা এই যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে এই বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলেও হামাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
গাজার চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, প্রথম বিমান হামলাটি গাজা সিটির রিমাল এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে চালানো হয়, যেখানে অন্তত চারজন নিহত হন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এই হামলা নিয়ে জানান, 'কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা বা নোটিশ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আমরা বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার কথা বলছি। এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক পরিবার রয়েছে।'
রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজেও দেখা গেছে, শত শত মানুষের বসবাস থাকা ওই বিধ্বস্ত ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন জ্বলছে এবং ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ টেনে বের করছেন। এর কিছু সময় পর কাছের একটি রাস্তায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হলে আরও তিনজন নিহত হন। তবে নিহতদের মধ্যে হাদ্দাদ ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বোমাবর্ষণ বন্ধ করার পর থেকে গত পাঁচ সপ্তাহে গাজায় হামলা আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারণা, হামাস যোদ্ধারা এই ধ্বংসপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করছে, তাই তারা পুনরায় গাজায় আক্রমণ বাড়িয়েছে। গত অক্টোবরের চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ ফিলিস্তিনি এবং হামাস যোদ্ধাদের হাতে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ উপকূলের একটি ছোট্ট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা অস্থায়ী তাঁবুতে বাস করছেন, যেখানে হামাসের কার্যত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা দখল করে রেখেছে এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার বা স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে থমকে গেছে।