১১ মে ২০২৬, ১৭:১০

পশ্চিমবঙ্গে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে ৪০ করার ঘোষণা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  © সংগৃহীত

ক্ষমতা নিয়েই সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে বর্তমানে যে সামাজিক প্রকল্পগুলি চালু রয়েছে তার কোনওটিই বন্ধ হবে না। খবর আনন্দবাজারের 

সোমবার (১১ মে) ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন শুভেন্দু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ছিলেন ওই বৈঠকে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি আগেই বলেছিলেন যে রাজ্যে দীর্ঘকাল নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। সেই কথা মাথায় রেখেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের সুযোগ করে দিতে আমরা বয়সের সীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে আবেদনের সাধারণ সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর। তবে তফসিলি জনগোষ্ঠীর প্রার্থীরা ৪৫ বছর এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারেন। আবার পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসের মতো গ্রুপ এ ও বি পদে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৩৬ থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপেরও বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তারই প্রতিফলন দেখা গেল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরির আবেদনের জন্য বয়ঃসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয় না— পূর্বতন সরকারের আমলে বহু বার এই অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের নামবদল ঘিরেই টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। এ বার বিজেপি সরকার গঠন হতেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘মোদীজি বলেছিলেন, প্রথম ক্যাবিনেটে আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় যুক্ত হলাম। এই সংক্রান্ত এগ্রিমেন্ট এবং অন্য বিষয়গুলি স্বাস্থ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টা এবং মুখ্যসচিব মিলিত ভাবে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন।’ 

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, পিএমশ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও রাজ্যকে সক্রিয় ভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জেলাশাসকদের দ্রুত এই সংক্রান্ত আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় রাজ্যে মৃত্যুহীন, ভয়মুক্ত, অবাধ নির্বাচনের জন্য এ রাজ্যের ভোটার, নির্বাচন কমিশন, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভোটকর্মী, ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা পর্যবেক্ষক এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী-সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শুভেন্দু।