ভেনেজুয়েলার ১৩ কেজি ইউরেনিয়াম জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিলেন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গবেষণা রিয়্যাক্টর থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টিকে নিজেদের এক অভাবনীয় কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি দপ্তর ভেনেজুয়েলার এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস বলেন, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু এবং দূতাবাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষায়িত দল। সংস্থাটি জানিয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই ইউরেনিয়াম জল ও স্থলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো সাউথ ক্যারোলাইনার একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনায় রাখা হয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার দাবি করেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর ওই স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ইউরেনিয়াম সরানো জরুরি হয়ে পড়ে। যদিও গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটকের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই দেশটির রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এই স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে কঠিন শর্ত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মার্কিন দাবি না মানলে রদ্রিগেজের পরিণতি মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল কৌশল এখনো ইরানকে তার প্রায় ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম ত্যাগে বাধ্য করা। কিন্তু ইরানের কাছে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের তুলনায় এই ১৩ দশমিক ৫ কেজি সামান্য, তবুও এর প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই সাফল্যকে ট্রাম্প তাঁর বৈদেশিক নীতির বড় জয় হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছেন।
আরও পড়ুন: থালাপতির তারুণ্য নির্ভর দলে ৯৩ বিধায়কই নতুন মুখ, ৬৩ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে মার্কিন জ্বালানি ও খনি সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত দখলের সুযোগ পাওয়ায় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো উৎসবে মেতেছে। এ ঘটনার পর তেহরানের প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। ইরানকে তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম সমর্পণে চাপ দিতে এই ঘটনাকে একটি ‘মডেল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে ওয়াশিংটন। তবে সমালোচকেরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় যা সম্ভব হয়েছে, সামরিকভাবে শক্তিশালী ইরানে তা প্রয়োগ করা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।