১০ মে ২০২৬, ১২:২৫

থালাপতির তারুণ্য নির্ভর দলে ৯৩ বিধায়কই নতুন মুখ, ৬৩ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত

থালাপতি বিজয়   © সংগৃহীত

থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগামের (টিভিকে) হয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়িয়ে চমক দেখিয়ে জয়ী হয়েছেন এমন বিধায়কের সংখ্যা নজর কাড়ার মতো। ১০৭ জন বিধায়কের মধ্যে ৯৩ জনই নতুন মুখ। এমনকি খোদ দলপ্রধান বিজয়েরও ছিল এটি প্রথম নির্বাচন। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিভিকের জয়ের নেপথ্যে বড় শক্তি ছিল তরুণ ভোটাররাই। অভাবনীয় জয়ের পর রবিবার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

কীভাবে তরুণদের কাছে টানলেন বিজয়—তা দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। দলটির বিধায়কদের গড় বয়স মাত্র ৪৫ বছর। এমনকি ২৮ বছর বয়সী বিধায়কও রয়েছে থালাপতির এই নতুন দলে। এছাড়া ৪০ বছরের নিচে বিধায়ক আছেন ৪১ জন। অথচ ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক নেতার সংখ্যা মাত্র ১০ জন। প্রথমবারের নির্বাচনে থালাপতি কেবল ভোটের মাঠেই চমক দেখাননি, সরকার গঠনেও রাজ্যপালের সঙ্গে বেশ ভালো দরকষাকষি করেছেন তিনি। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কংগ্রেস, ভিসিকে, বাম ও আইইউএমএলের সমর্থনে ১২১ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়তে যাচ্ছেন থালাপতির দল।

টিভিকের এক তরুণ নেতা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘টিভিকে একটি নতুন দল এবং এখানে তরুণরা প্রকৃত অর্থে সুযোগ পেয়েছে। অন্যান্য দলে প্রবীণদেরই প্রাধান্য থাকে, কিন্তু বিজয় তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন।’ 

মূলত বিজয়ের বিশাল তরুণ ভক্তকুলের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে অভিজ্ঞতার অভাব মেটাতে অন্যান্য দল থেকে আসা কিছু অভিজ্ঞ নেতাও রয়েছেন বিজয়ের পাশে। বিজয়ের দলে এমন আটজন বিধায়ক আছেন যারা অতীতেও বিধানসভার সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে এআইএডিএমকের সাবেক মন্ত্রী এবং প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান অন্যতম। এছাড়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি এস বাবু এবার কোলথুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে পরাজিত করে চমক দেখিয়েছেন। অভিজ্ঞদের তালিকায় আরও আছেন সাবেক এআইএডিএমকে মন্ত্রী এন সুব্রামানিয়ান, পুদুচেরির সাবেক বিধায়ক ও টিভিকে সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ এবং জে সি ডি প্রভাকর।

দলটির বিধায়কদের মধ্যে পেশাগত বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। হলফনামা অনুযায়ী, ৪৬ জন বিধায়ক ব্যবসায়ী এবং ১৯ জন আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত, ৯ জন চিকিৎসক ও ৮ জন আইনজীবী এবং ৭ জন বিনোদন জগত থেকে আসা। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ৬৩ শতাংশ বিধায়কই স্নাতক ডিগ্রিধারী।