১০ মে ২০২৬, ১২:১২

ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের  © সংগৃহীত

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তর ও সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাজধানী মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা কমাতে মস্কো কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

পুতিন বলেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনে আবারও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, অতীতে সংঘাতসংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান পরিবর্তন করে জানায়, ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই স্থানান্তর করতে হবে। এরপর থেকেই তেহরানও নিজেদের অবস্থান কঠোর করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মস্কো এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং চলমান সংকট দ্রুত সমাধানের আশা করছে।

এদিকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চুক্তির আওতায় তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে।

এরপর থেকে ইরান ধাপে ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা একাধিকবার সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এ প্রস্তাব মূলত আস্থা তৈরির একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ কমানোর পাশাপাশি নতুন করে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে মস্কো। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা