বিশ্বকাপের ১ মাস আগেই স্কুলে ছুটি ঘোষণা, দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা
ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ দিন আগেই শিক্ষাবর্ষ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো সরকার। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, এতে লাখো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবারগুলো বাড়তি চাপে পড়বে।
শুক্রবার দেশটির শিক্ষামন্ত্রী মারিও ডেলগাডো জানান, আগামী ৫ জুনের মধ্যেই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, কয়েকটি রাজ্যে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় সোনোরা রাজ্যের এক অনুষ্ঠানে মারিও ডেলগাডো বলেন, ‘আমরা ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে যাচ্ছি। কারণ, অনেক রাজ্যে এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে, এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের বিষয়টিও আছে।’
তিনি আরও জানান, ছুটি এগিয়ে আনার কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষ কিছুটা আগে শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে নতুন শিক্ষাবর্ষ আগামী ৩১ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ফুটবল বিশ্বকাপ।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পরও দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বিষয়টিকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না। তিনি এটিকে কেবল একটি ‘প্রস্তাব’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বলেন, ‘এখনো কোনো চূড়ান্ত সূচি হয়নি। শিশুরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। কারণ, এতে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে টানা প্রায় তিন মাস সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বাড়তি ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক পরিবারকেই এজন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতে পারে।
দেশটির পাবলিক পলিসি থিঙ্কট্যাংক ‘মেক্সিকো ইভালুয়া’ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগাম ছুটি দেওয়া হলে ২ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যাবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়বে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন ‘কোপারমেক্স’ এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এতে কর্মজীবী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন কাজের সূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
এদিকে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিসকো আগাম ছুটির সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আগের সূচি অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখবেন। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে গুয়াদালাহারা শহরে যেসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, শুধু সেই দিনগুলোতে কৌশলগত কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হবে।