০৯ মে ২০২৬, ১০:২৫

দেশে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ, গ্রামের বাড়িতে জানাজার প্রস্তুতি

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি   © টিডিসি ফটো

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। দাফনের জন্য ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুরে জানাজার প্রস্তুতি চলছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে ০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এ সময় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক সহপাঠী বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, তারা দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ৪ মে নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের চর গোবিন্দপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেখানে দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিকেল ৩টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

খবর পাওয়ার পর থেকেই বৃষ্টিকে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য সকাল থেকে তার বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী। শোকাহত পরিবেশে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

পরিবার জানিয়েছে, আসর নামাজের পর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘ও (বৃষ্টি) বাড়িতে এলে গ্রামের সবাইকে শুধু পড়ার উপদেশ দিত। ভালো মানুষ হওয়ার উপদেশ দিত। এখন আর কেউ এই উপদেশ দেবে না। কেউ বলবে না লেখাপড়া করলে ভালো মানুষ হওয়া যায়। আমরা শুধু মেয়ে হারাইনি, হারিয়েছি পুরো এলাকার একটি আলো। বৃষ্টিকে যারা মেরেছে আমরা তার বিচার চাই।’