লিমন-বৃষ্টি হত্যা মামলার আসামী হিশামের মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে হিলসবরো কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গ্র্যান্ড জুরি হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগে অভিযুক্ত করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুইটি প্রথম ডিগ্রির হত্যা, শারীরিক প্রমাণ নষ্ট করা, অনুমোদনহীন অবস্থায় মৃতদেহ সরানো বা সংরক্ষণ করার দুইটি অভিযোগ এবং মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখার দুইটি অভিযোগ।
গত ১৭ এপ্রিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। পরে গত শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুই দিন পর পানির ভেতর থেকে আরও একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা পরে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়।
এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে তাদের হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠনের পর স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার নোটিশ জমা দিয়েছে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, এই মামলায় কয়েকটি গুরুতর বিষয় রয়েছে, যা মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল ‘ঠান্ডা মাথায়, পরিকল্পিত ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত’। এছাড়া তারা বলেছে, ‘অপরাধগুলো ছিল অত্যন্ত নৃশংস, ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর।’ একই সঙ্গে একই ঘটনায় একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নাহিদা ও লিমনের পরিবারকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশাম আবুগারবিয়েহ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার তার পক্ষে আদালতে লিখিতভাবে ‘দোষী নন’ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা দুটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই তরুণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে আমাদের কমিউনিটিতে এসেছিল পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। অকল্পনীয় সহিংসতায় তাদের জীবন থেমে গেছে। আমরা এই অপরাধের জন্য আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইব। পরিবারগুলো আশাভরা মন নিয়ে তাদের সন্তানদের পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পাঠিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা অকল্পনীয় শোকের মুখোমুখি। আমরা তাদের শোকের পাশে আছি এবং নাহিদা ও জামিলের ন্যায়বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত থামব না।’
বর্তমানে হিশাম আবুগারবিয়েহ কোনো জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। আগামী ১৮ মে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমনকে শুক্রবার (৮ মে) মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাদের স্মরণে দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়।
ইউএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাহিদা ও জামিলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।