দুই অভিযোগে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের সাজা দুই বছরের জন্য সেই দণ্ড স্থগিত রাখা হয়েছে। চীনে এ ধরনের স্থগিত মৃত্যুদণ্ড পরবর্তীতে সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে সরাসরি ঘুষ গ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে তার উত্তরসূরি লি শাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও ঘুষ দেওয়ার—দুই অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।
লি শাংফু ২০২৩ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি চীনের সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম ক্রয় ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতেও শি জিনপিং ধারাবাহিকভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও চীনের সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়। একসময় ১১ সদস্যবিশিষ্ট শক্তিশালী ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’ বর্তমানে অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এখন শি জিনপিং ছাড়া সেখানে মাত্র একজন সদস্য রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ডং জুন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাকে এখনো সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সদস্য করা হয়নি।