০৮ মে ২০২৬, ১০:৪৫

স্কুলে বেত ব্যবহারে অনুমতি দিল সিঙ্গাপুর

স্কুলে বাচ্চাদের পাঠদান  © সংগৃহীত

স্কুলগুলোতে বুলিং বা উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে কঠোর শৃঙ্খলাবিধি চালু করেছে সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে দোষী সাব্যস্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তিস্বরূপ বেত্রাঘাতের বিধান রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে এই নতুন বিধিমালা নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। নিয়ম অনুযায়ী, বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে এক থেকে তিনটি বেত্রাঘাত করতে পারবে। 

বেত্রাঘাতের এই শাস্তি কেবল শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হলেই কেবল বেত্রাঘাতের পথ বেছে নেওয়া হবে।

নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল উচ্চ প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার চেয়ে বড় ছেলেশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। সিঙ্গাপুরের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ থাকায় ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সাজা হিসেবে আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার বা আচরণগত গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শাস্তির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর প্রটোকলের মধ্য দিয়ে যাবে। বেত্রাঘাতের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সরাসরি অনুমোদন লাগবে এবং কেবল অনুমোদিত শিক্ষকেরাই এটি কার্যকর করতে পারবেন। শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা এবং এই সাজা তার সংশোধনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা-ও বিবেচনা করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

দেশজুড়ে বেশ কিছু আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে এক বছরের পর্যালোচনা শেষে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিল সিঙ্গাপুর সরকার। 

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বেত্রাঘাতকে ‘নিষ্ঠুর ও অবমাননাকর’ হিসেবে অভিহিত করে এটি পুরোপুরি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনের বরাতে তারা জানায় যে, শারীরিক শাস্তি শিশুদের জন্য বহুমাত্রিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। যদিও সিঙ্গাপুর সরকারের দাবি, গুরুতর অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গ ঠেকাতে বেত্রাঘাত একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। 

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে চলে আসা এই প্রথাটি সিঙ্গাপুর ধরে রাখলেও যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো অনেক আগেই তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শারীরিক শাস্তি তুলে দিয়েছে।