০৮ মে ২০২৬, ১০:১১

আবারও বাড়লো তেলের দাম

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মাঝেই হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনায় জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকালে সংঘটিত এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০১.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। খবর আল জাজিরার

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিবাদে ইরানি বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ‘ব্যাপক ক্ষতি’ করেছে বলে দাবি তেহরানের, যদিও ওয়াশিংটন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বের হওয়ার সময় ইরানি বাহিনী কোনো উসকানি ছাড়াই তাদের ওপর মিসাইল, ড্রোন ও ছোট নৌকা নিয়ে হামলা চালায়, যার জবাবে তারা আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জড়িত ছিল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, বেশ কিছু ইরানি ছোট নৌকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া মিসাইলগুলো সহজেই ভূপাতিত করা হয়েছে। 

এই সংঘাতের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে গত ২১ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং ইরানের সাথে আলোচনা চলমান আছে। ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ইরানকে চরম হামলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীরা এই যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে দেখছেন। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, কারণ বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরানি সংবাদমাধ্যম পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করেছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে তারা সংঘাতের বিস্তার চায় না।