মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে ইরান কি ‘কামিকাজ ডলফিন’ ব্যবহার করবে?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করতে ইরান ‘কামিকাজ’ বা আত্মঘাতী ডলফিন ব্যবহার করতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, ইরানের এ ধরনের কোনো ডলফিন বাহিনী নেই।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের কামিকাজে ডলফিন আছে কি না তা আমি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে পারি না, তবে আমি নিশ্চিত করতে পারি যে তাদের (ইরানের) এটি নেই।’
মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা মাইন নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই এই বিচিত্র সামরিক কৌশলের বিষয়টি সামনে আসে।
গত ৩০ এপ্রিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে ‘মাইন-বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহারের কথা বলেছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ দীর্ঘকাল ধরে সামরিক প্রয়োজনে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর নিজস্ব মেরিন ম্যামাল প্রোগ্রাম অনুযায়ী, ডলফিনদের পানির নিচে মাইন শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন বলছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বর্তমান প্রচেষ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ডলফিন ব্যবহার করছে না।
ডলফিন যুদ্ধ ও সক্ষমতা
সামরিক উদ্দেশ্যে ডলফিন বা সি-লায়নের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ১৯৫৯ সাল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী বোটলনোজ ডলফিনদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ডলফিনের প্রাকৃতিক সোনার প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে এটি বিজ্ঞানের কাছে পরিচিত যেকোনো আধুনিক যন্ত্রের চেয়ে নিখুঁত কাজ করে।
মেরিন ম্যামাল প্রোগ্রামের তথ্যমতে, পানির নিচের ড্রোনগুলোও ডলফিনের ক্ষমতার কাছে নস্যি। ডলফিন ও সি-লায়ন উভয়ই অন্ধকার বা ঘোলা পানিতে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। তারা মূলত মাইন খুঁজে বের করে তার অবস্থান চিহ্নিত করে দেয়, যাতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ডলফিন ব্যবহারের দৌড়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, রাশিয়াও অতীতে বন্দর পাহারার কাজে এই প্রাণীদের ব্যবহার করেছে। ২০০০ সালে ইরান কিছু ডলফিন কিনেছিল বলে বিবিসি জানিয়েছিল, তবে বর্তমান সময়ের যুদ্ধের জন্য সেগুলো সম্ভবত অনেক বেশি বয়স্ক হয়ে গেছে।
এছাড়া তেহরানের বর্তমানে কোনো সক্রিয় ডলফিন কর্মসূচি রয়েছে কি না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ডলফিনদের ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী হিসেবে ব্যবহার করে না; তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কেবল শনাক্তকরণ ও উদ্ধারকাজের জন্য। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনায় এই ডলফিন যুদ্ধ একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।