০৫ মে ২০২৬, ২২:৩১

আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগে প্রবেশ করল তুরস্ক

সাহা ২০২৬ প্রদর্শনীতে তুরস্কের প্রথম আইসিবিএম  © সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ইলদিরিমহান  জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে তুরস্ক । মঙ্গলবার (৫ মে) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচন করা হয়, যা তুরস্কের দীর্ঘপাল্লার টার্গেটে আঘাত হানার সক্ষমতায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর আনাদোলু এজেন্সীর

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরঅ্যান্ডডি সেন্টারের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি (ম্যাক ২৫) গতিতে চলতে সক্ষম এবং এর পাল্লা প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার (৩,৭২৮ মাইল)। উন্নত প্রযুক্তির এই ক্ষেপনাস্ত্রে জ্বালানি হিসেবে লিকুইড নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড ব্যবহার করা হয়েছে যেটি চারটি রকেট ইঞ্জিনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তুরস্কের এ পর্যন্ত তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম উন্নত প্রযুক্তি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এটি।

ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণেও অটোমান শাসনের ধারাবাহিকতা রেখেছে আঙ্কারা। তুর্কি ইলদিরিম শব্দের অর্থ বজ্রপাত। উসমানীয় সুলতান বায়েজিদ ইলদিরিমহান ছিলেন অটোম্যান সাম্রাজ্যের চতুর্থ সুলতান। তার নামেই মিসাইলটির নামকরণ করা হয়েছে। 

সাহা ২০২৬ প্রদর্শনীতে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো তাদের নতুন প্রযুক্তিগুলো তুলে ধরছে। ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রের এই অভিষেক তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান প্রসারেরই একটি অংশ, যেখানে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। যার মূল লক্ষ্য হলো তুরস্কের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা জোরদার করা এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করা।