০৫ মে ২০২৬, ১৩:৪১

নতুনদের নিয়ে গড়া বিজয়ের প্রথম মন্ত্রিসভা কেমন হতে পারে

থালাপাতি বিজয়   © টিডিসি ফটো

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগম’ (টিভিকে) গত পাঁচ দশকের দ্বিমেরু রাজনীতিকে কার্যত চুরমার করে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। ১০৭টি আসন জিতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১১৭ থেকে কিছুটা দূরে আটকে যাওয়ায় রাজ্যে প্রথমবারের মতো একটি সত্যিকারের ‘জোট সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তরুণ, পেশাদার এবং বৈচিত্র্যময় এক ‘গেম-চেঞ্জিং’ মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন বিজয়, যা হবে মেধা ও অভিজ্ঞতার এক অনন্য সংমিশ্রণ।

রাজ্যের এই ঐতিহাসিক রায় বিজয়কে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে যেখানে তাকে কূটনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে ছোট দলগুলোকে সাথে নিয়ে এগোতে হবে। বিজয়ের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় অন্যদের সাথে জোট বেঁধে একটি স্থিতিশীল কোয়ালিশন সরকার গঠন করা, অথবা কয়েকটি দলের বাইরে থেকে দেওয়া সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার চালানো। 

দ্বিতীয় পথটিতে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি থাকায় বিজয় প্রথম পথটিকেই বেছে নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। উল্লেখ্য, প্রচারণার সময় বিজয় নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ‘ক্ষমতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত’। এই পরিবর্তনটি অতীতের ‘বিজয়ী সব পাবে’—এমন একতরফা ম্যান্ডেট থেকে এক ঐতিহাসিক বিচ্যুতি ঘটাবে।

মন্ত্রিসভা গঠন বিজয়ের জন্য হবে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার কাজ। ধারণা করা হচ্ছে, তার নেতৃত্ব একটি ‘ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচি’ বা ‘কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম’-কে অগ্রাধিকার দেবে যেখানে পরিচয়ের রাজনীতির চেয়ে উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই কৌশলটি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র অভিজ্ঞ বিধায়কদেরও বিজয়ের নতুন শক্তি কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে। 

তবে এটি তখনই সম্ভব হবে যখন সব পক্ষের নেতারা নিশ্চিত হবেন যে বিজয় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম। পিএমকের ৪ জন বিধায়ক সাথে আসার সম্ভাবনা থাকলেও দলিত ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখে বিজয়কে এখানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে।

বিজয়ের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার গঠন বর্তমান ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে এক আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরনো ধাঁচের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার বদলে এখানে মেধা এবং সঠিক প্রতিনিধিত্বের সংমিশ্রণ দেখা যেতে পারে। 

মানুষের প্রত্যাশা হলো—এই মন্ত্রিসভা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তরুণ, বৈচিত্র্যময় এবং পেশাদার হবে, যেখানে দলিত, নারী এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষা করতে কেএ সেঙ্গোত্তাইয়ান এবং জেসিডি প্রভাকরের মতো হাই-প্রোফাইল নামগুলো মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। অন্যদিকে, আধভ অর্জুনা, কেজি অরুণরাজ এবং সিটিআর নির্মল কুমারের মতো ব্যক্তিরা হবেন নতুন প্রজন্মের কৌশলী চিন্তাবিদ।

তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এর আগে ১৯৫২ এবং ২০০৬ সালে ঝুলন্ত বিধানসভা দেখা গেলেও এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভি-টিম বা বিজয়ের এই মন্ত্রিসভা হবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। 

একজন রূপালী পর্দার মহাতারকা সফলভাবে একজন রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে একটি জটিল ও সংখ্যালঘু নেতৃত্বাধীন জোট পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো রাজ্য। সব মিলিয়ে, নতুনদের প্রাধান্য দিয়ে গড়া এই মন্ত্রিসভা তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক কাঠামোতে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে।

সংবাদসূত্র: এনডিটিভি