০৫ মে ২০২৬, ১২:১৪

কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, আলোচনায় ৩ নেতা

কোলাজ ছবি   © টিডিসি ফটো

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল জয়ের পর সবার নজর এখন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পদের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন দলীয় কর্মীরা।

সোমবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। গণনা হওয়া ২৯৩টি আসনের মধ্যে দলটি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) জিতেছে মাত্র ৮১টি আসনে।

তবে বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, তারা মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পালের নামও তালিকায় রেখেছেন। অগ্নিমিত্রা পাল সোমবার আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন।

একজন প্রবীণ বিজেপি নেতার মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একবার নয়, দুবার পরাজিত করার পুরস্কার পেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তিনি ভবানীপুরে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতাকে হারিয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে তিনি মমতাকে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘২০২০ সালে তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই শুভেন্দু মমতার বিরুদ্ধে নিরলস লড়াই চালিয়ে গেছেন।’ এর বিনিময়ে তৃণমূল সরকার তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০টি মামলা দায়ের করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২ এপ্রিল যখন শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেন, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার সঙ্গে ছিলেন। এটি ইঙ্গিত দিয়েছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শুভেন্দুর পাশেই রয়েছে। সেদিন শাহ বলেছিলেন, ‘মমতা গত নির্বাচনে জিতেছিলেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এই বছর মমতা পুরো বাংলা এবং ভবানীপুরেও হারবেন।’

অন্য এক জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতা বলেন, শুধু লোকসভা নির্বাচন নয়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে দল কোনো প্রার্থীকে দুটি বিধানসভা আসনে দাঁড় করায়নি। তিনি বলেন, ‘শুভেন্দুর জন্য এটি ছিল তার জনপ্রিয়তা এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে যোগ্যতার পরীক্ষা।’

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী ৭৩,৯১৭ ভোট পেয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২ ভোট। এছাড়াও শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূলের পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল গণনা কেন্দ্রের বাইরে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক জয়... হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়, মোদীজির জয়।’

বিজেপি কর্মীদের মতে, অগ্নিমিত্রা পালও এই দৌড়ে আছেন। দল যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তিনি হতে পারেন আদর্শ প্রার্থী। অগ্নিমিত্রা ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভার সাংসদ ছিলেন। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের নামটিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তার নেতৃত্বেই দল বাংলায় প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলো। শমীক বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য।

বিজেপি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার জন্য কবে সংসদীয় দলের বৈঠক হবে, সে বিষয়ে নেতারা এখনো স্পষ্ট কিছু জানাননি।

তৃতীয় এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করছি দল খুব শীঘ্রই সংসদীয় দলের বৈঠক করার জন্য একজন পর্যবেক্ষকের নাম ঘোষণা করবে। সেটি হয়ে গেলেই রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে শুরু হবে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু অধিকারী ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একটি জনসভায় অমিত শাহ তাকে দলে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

বিজেপি নেতারা জানান, শুভেন্দু গত দুই মাস ধরে রাজ্যজুড়ে হাই-প্রোফাইল প্রচার চালিয়েছেন। একজন নেতা উল্লেখ করেন, শুভেন্দু ২০২৫ সালের প্রচারের গতিপথ নির্ধারণ করেছিলেন এই বলে যে—বিজেপির উচিত বাংলার ৭০.৫৪ শতাংশ হিন্দু ভোটারের দিকে নজর দেওয়া এবং প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটারকে উপেক্ষা করা।

বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্তত ১২০টিতে মুসলিম ভোটাররা বড় ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালে বিজেপি এই আসনগুলোর মধ্যে মাত্র ৭৭টিতে জিতেছিল। সেবার নয়জন মুসলিম প্রার্থীকে দাঁড় করালেও কেউ জিততে পারেননি।

গত বছরের জানুয়ারিতে পূর্ব মেদিনীপুরের এক জনসভায় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমরা ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি। এগুলো সবই হিন্দুদের ভোট। যদি আরও ১০ শতাংশ হিন্দু আমাদের ভোট দেয়, তবে আমরা আগামী বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করব।’

সোমবারের ফলাফলে দেখা গেছে, মালদা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কলকাতা এবং বীরভূমের মতো উচ্চ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও বিজেপি সহজ জয় পেয়েছে।

সূত্রঃ হিন্দুস্থান টাইমস