০৪ মে ২০২৬, ১৬:৫২

হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা 

হরমুজ প্রণালি  © সংগৃহীত

ফের হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার (৪ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী ‘মার্কিন-জায়নবাদী’ যুদ্ধজাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরের কাছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করে জাহাজটি অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের

প্রতিবেদরেন জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। গত রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া এবং খাদ্য ও রসদ সংকটে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘গাইড’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে সোমবার জানিয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি শক্তি ওই জলপথে প্রবেশ করলে আক্রমণ করা হবে।

ইরানের ইউনিফাইড কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের হাতে এবং যে কোনো জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা আবশ্যক। আমরা সতর্ক করছি যে, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যদি এই প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।’

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরান তাদের নিজস্ব জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের একমাত্র পথ। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি আটকা পড়া জাহাজ উদ্ধারে ১৫,০০০ সামরিক সদস্য, ১০০টিরও বেশি বিমান এবং যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই উদ্ধার অভিযানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।