০২ মে ২০২৬, ০৭:৪২

ইরান যুদ্ধ নিয়ে দ্বন্দ্বে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

৫ হাজার সেনা সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী  © সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্র জার্মানির সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তজনার জেরে সেখান থেকে ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও সিবিএস নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

পেন্টাগন গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এর কয়েক দিন আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ ইরান যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত আলোচনার সময় মন্তব্য করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপদস্থ’ করছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে, চ্যান্সেলরের এমন ‘প্রতিকূল’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। গত বুধবার তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যেসব দেশ এ যুদ্ধে পর্যাপ্ত সমর্থন দেবে না, সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন। 

বৃহস্পতিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলরকে আক্রমণ করে বলেন, মার্জের উচিত পারমাণবিক হুমকি নির্মূলের কাজে ‘হস্তক্ষেপ’ না করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বেশি সময় দেওয়া। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে মোকাবিলা করার মাধ্যমেই জার্মানি ও পুরো বিশ্ব নিরাপদ হবে।

শুরুতে মার্কিন হামলার বিষয়ে নীরব থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় চ্যান্সেলর মার্জ সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তিনি এই যুদ্ধকে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো সামরিক চোরাবালির সাথে তুলনা করেছেন। মার্জের মতে, এই যুদ্ধ জার্মানির অর্থনৈতিক উৎপাদনের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।