৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০২

ইরান যুদ্ধে ২৫ বিলিয়ন ডলার খুঁইয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ  © সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে দেওয়া তথ্যে পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র পুরো এক বছরের বাজেটের সমান। খবর রয়টার্সের

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কমট্রোলার জুলস হার্স্ট জানান, এই ব্যয়ের সিংহভাগই খরচ হয়েছে গোলাবারুদ বা সমরাস্ত্রের পেছনে। তবে এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এর আগে গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছিল অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই বিশাল ব্যয়কে যৌক্তিক দাবি করে বলেন, ‘ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।’ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক বোমা রোধে আপনারা কত মূল্য দিতে রাজি আছেন?’। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই যুদ্ধকে চোরাবালি বলে সমালোচনা করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সমালোচনাকারী আইনপ্রণেতাদের অযোগ্য ও পরাজিত বলে আক্রমণ করেন হেগসেথ।

উল্লেখ্য যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হলেও বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।