২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪

জাহাজ জব্দের পর মার্কিন ‘জলদস্যুতার’ তীব্র নিন্দা তেহরানের, পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কেশম দ্বীপ উপকূলে নোঙর করা ট্যাঙ্কার  © এপি

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে ইরান “সশস্ত্র জলদস্যুতা” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এ ঘটনার পর তেহরান পাল্টা প্রতিশোধের হুমকিও দিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও চাপে পড়েছে। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে চাইলেও ইরান এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পেছনে থাকা দীর্ঘদিনের নৌ-অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করেছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রবিবার তারা বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়া ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালায়। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, জাহাজটি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং ভেতরের মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে এক সামরিক মুখপাত্র জানান, মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপের জবাবে ইরান খুব শিগগিরই প্রতিক্রিয়া জানাবে।

একই সঙ্গে তেহরান নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চলমান অবরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন ও অযৌক্তিক দাবিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।