১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করল ইরান  © সংগৃহীত

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে ইরান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে তাসনিম নিউজ জানায়, ‘ওয়াশিংটন যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে না পারবে, ততদিন সংলাপ স্থগিত থাকবে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি লেবাননে জায়নবাদী শাসনের সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, লেবাননের জনগণ ও সরকারের প্রতি ইরানের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

বাকাই লেবাননের জনগণের প্রতিরোধকে ‘কিংবদন্তিতুল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সময় ইরানের প্রতি লেবাননের জনগণের সমর্থন ও সংহতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজ ইরান ও লেবাননের জনগণের মধ্যে সংহতি ও সহানুভূতি ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

যুদ্ধবিরতি ও লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা পাকিস্তানের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। বাকাই আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ বা অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল হবে।’

এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ইরানের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সাথে মিলছে না বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরান 'খুবই খারাপ কাজ' করছে। কেউ কেউ এটিকে অসম্মানজনকও বলবেন।‘

তিনি আরও বলেন, ইরান যা করছে, তা ‘আমাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে নেই।‘

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো থেকে ইরান ‘যেন ফি না নেয়‘ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে ট্যাংকারগুলো থেকে ইরান ফি নিচ্ছে। এমনটা যেন তারা যেন না করে। যদি করেও থাকে, তাহলে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।‘