০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৪

ন্যাটো ছাড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের

ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল জাজিরা। 

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ ছিল ন্যাটোর জন্য একটি পরীক্ষা, সেই পরীক্ষায় জোটটি ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের বারবার চাপ সত্ত্বেও এই যুদ্ধে সামরিক সৈন্য পাঠাতে মিত্র দেশগুলো রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিনের এই নিরাপত্তা জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বৈঠকের আগে ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘ন্যাটো নিয়ে আমি প্রেসিডেন্টের একটি সরাসরি উক্তি আপনাদের শোনাতে চাই—তাদের পরীক্ষা করা হয়েছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে গত ছয় সপ্তাহে ন্যাটো আমেরিকানদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অথচ এই আমেরিকানরাই তাদের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন করে আসছে।’ 

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, মিত্র দেশগুলো কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থেকেছে, যা মার্কিন প্রত্যাশার পরিপন্থী।

বিকেলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট আলোচনাকে ‘অত্যন্ত স্পষ্ট’ বলে বর্ণনা করেন। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধে সৈন্য না পাঠানোয় হোয়াইট হাউসে ‘নিশ্চয়ই একটি হতাশা কাজ করছে’। 

তবে তিনি দাবি করেন, সরাসরি সৈন্য না দিলেও ন্যাটোর মিত্ররা রসদ সরবরাহ এবং নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। রুট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার যুক্তিগুলো মন দিয়ে শুনেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প ইউরোপীয় অংশীদারদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে কঠোর চাপ দিয়ে আসছেন। গত জুনে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিতে দেশগুলো সম্মত হলেও স্পেন এতে ছাড় চাওয়ায় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে হুমকি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে ইউরোপের অনাগ্রহের ফলে এই উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। 

ইতিমধ্যে জার্মানি ও স্পেন থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ন্যাটো থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় নেওয়ার বিষয়টি এখন খোদ প্রেসিডেন্টের আলোচনার টেবিলে রয়েছে।