দিল্লির বৈঠকে শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরত চাইল ঢাকা
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণও চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দিল্লি সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিন দিনের সফরে দিল্লিতে গিয়ে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রায়ের পর ২১ নভেম্বর প্রথমবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই অনুরোধ জানায়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ও কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই সফরে প্রত্যর্পণ ইস্যুর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলার আসামি প্রত্যর্পণে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সম্ভাবনা এবং ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ।
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে ‘গঠনমূলক সম্পর্ক’ এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।