ইরান যুদ্ধে কোন দেশের কত মানুষ প্রাণ হারালেন?
অবশেষে যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহের জন্য কার্যকর হবে। এতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। তেহরান জানিয়েছে যুদ্ধ বিরতির ফলে এখন থেকে নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। বিভিন্ন দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন ফ্রন্টলাইন এবং আক্রান্ত দেশগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চল: মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩,৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৭০১ জনই বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে অন্তত ২৫৪ জন শিশু রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক বিবৃতির ভিত্তিতে তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে অন্তত ১,৯০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এর বাইরে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলায় আরও ১০৪ জন নিহতের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
লেবানন: লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৫৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৯ জন শিশু। হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নতুন যুদ্ধে তাদের ৪০০-এর বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। লেবানন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১০ জন সদস্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে পৃথক দুটি ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইরাক ও সিরিয়া: ইরাকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংকটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই তালিকায় বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও ইরানপন্থী শিয়া পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস, কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা এবং পুলিশ-সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। ইরাকি বন্দরের কাছে ট্যাঙ্কারে হামলায় একজন বিদেশি ক্রু সদস্যও নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিরিয়ার সোয়েদা শহরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান, কী আছে এতে?
ইসরায়েল ও পশ্চিম তীর: ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলে দেশটিতে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সৈন্য নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ২২ মার্চ লেবানন সীমান্তে ভুলবশত নিজস্ব বাহিনীর গুলিতে এক ইসরায়েলি কৃষক নিহত হন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ফিলিস্তিনি নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে ৭ জন নিহত হন। এছাড়া উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় ফ্রান্সের একজন সেনাসদস্য নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ইরানি হামলায় দুই সেনাসদস্যসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। আবুধাবির হাবশান গ্যাসক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে।
কাতার: ২২ মার্চ রুটিন ডিউটির সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪ জন কাতারি সেনা, ১ জন তুর্কি সেনা এবং ২ জন তুর্কি প্রযুক্তিবিদ ছিলেন।
কুয়েত: কর্তৃপক্ষ ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ৩ জন ইরানি হামলায় এবং বাকিরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য।
বাহরাইন: ইরানি হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনে কর্মরত আরব আমিরাতের একজন মরক্কান ঠিকাদারও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ওমান: গত ১৩ মার্চ সোহর প্রদেশে ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত হন। মাস্কাট উপকূলে ট্যাঙ্কারে হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আল-খারজ শহরে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। তথ্যসূত্র: রয়র্টাস