বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হওয়ার আলোচনায় কে এই আরিফ খান
ঢাকায় ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ায় প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পাঠানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনার মধ্যেই তার উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, পেশাদার কূটনীতিক না হলেও গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর নজির ভারতের রয়েছে। ঢাকার মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তাই একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত কাউকে পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যে অনুযায়ী, সম্প্রতি বিহারের রাজ্যপালের দায়িত্ব থেকে সরানোর পর থেকেই আরিফ মোহাম্মদ খানকে ঢাকায় পাঠানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেরালার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লোকসভার তিনবারের এই সদস্য নব্বইয়ের দশকের আগে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন।
১৯৫১ সালের ১৮ নভেম্বর বুলন্দশহরে জন্ম নেওয়া আরিফ মোহাম্মদ খান দিল্লির জামিয়া মিলিয়া স্কুল, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। ‘বন্দে মাতরম’ উর্দুতে অনুবাদের জন্যও তিনি পরিচিত।
ভারতীয় রাজনীতিতে তার উত্থান ছাত্রজীবন থেকেই। কংগ্রেসের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসে রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে শাহ বানু মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক জীবনে বড় বাঁক আসে। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি ওই রায়ের পক্ষে বক্তব্য দেন, যা তাকে প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি করে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাজীব গান্ধী সরকার সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় অকার্যকর করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে এর বিরোধিতা করে তিনি মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন।
এই ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন দলে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং একাধিকবার মন্ত্রী হন। শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিহারের রাজ্যপালের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরোধিতা এবং স্বাধীন অবস্থানের কারণে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণ বয়সে মন্ত্রী হওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আরিফ মোহাম্মদ খান। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও নীতিগত মতবিরোধে আপস না করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। শাহ বানু ইস্যুকে ঘিরে সেই সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতায় তার কংগ্রেস ত্যাগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এত উচ্চপ্রোফাইলের একজন রাজনীতিককে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হলে তা হবে একটি বিরল কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এমনকি তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে। কেন তাকে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।