যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান, কী আছে এতে?
চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-র এক প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, কয়েকদিন আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মাধ্যমে ওই ১৫ দফা পরিকল্পনাটি ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পরপরই আমরা জানিয়ে দিয়েছি, এগুলো অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক—যা কোনোভাবেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’
বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ইরান নিজস্ব স্বার্থ ও বিবেচনার ভিত্তিতে তাদের দাবি-দাওয়া প্রস্তুত করেছে এবং সেই অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের দেওয়া যে ১০ শর্ত মেনে যুদ্ধ স্থগিতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র
প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, ইরানের নাটাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার স্থায়ী অঙ্গীকার এবং ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করা।
এছাড়া প্রস্তাবে ইরানকে দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর সব কার্যক্রম আইএইএ-র তত্ত্বাবধানে আনার শর্তও রাখা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লার ওপর সীমা আরোপ, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানি হামলা বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘের পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ দেওয়া ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হবে। পাশাপাশি ইরানের বুশেহর বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।