০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু রক্ষায় ‘মানবঢাল’ তৈরীতে জনতার ঢল

তেহরানের একটি বিদ্যুৎকেন্দের আশেপাশে জড়ো হয়েছেন সাধারণ ইরানীয়রা  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় অবকাঠামোগুলোর চারপাশে ‘মানবঢাল’ গড়ে তুলছে দেশটির সাধারণ মানুষ। তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে কেবল ইরান নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

 মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তাবরিজের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দেজফুলের একটি ঐতিহাসিক সেতুর কাছে কয়েক হাজার মানুষ হাতে হাত ধরে মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মূলত মার্কিন হামলা থেকে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতেই সাধারণ নাগরিকরা এই সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। ইরানের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিকে ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানি যুবকদের ঐক্য’ হিসেবে অভিহিত করে দেশজুড়ে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

বিদ্যমান এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় সতর্ক করেছেন যে, ইরান তার দেওয়া শর্তগুলো পূরণ না করলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মুখোমুখি অবস্থানে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন অবস্থানে কোনো নমনীয়তা দেখা যায়নি। 

ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো ধরনের চাপের মুখে তারা আলোচনায় বসবে না। একই সঙ্গে তারা পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে সৌদি আরবসহ পুরো অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন যে,  ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় মূলত ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

নেতানিয়াহুর দাবি, এই অভিযানগুলো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ধারাবাহিক আঘাত হেনেছে, যা ওই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।