ইরান যুদ্ধ: এর আগে আরও যেসব হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে। তবে এখন যেহেতু দেশটির শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং সেখানে ভিন্ন, আরও বুদ্ধিমান ও অপেক্ষাকৃত কম উগ্র মানসিকতার মানুষ নেতৃত্বে এসেছে; সেহেতু হয়তো ইতিবাচক কিছুই ঘটবে। কে বলতে পারে!
‘‘আমরা এটি আজ রাতেই জানতে পারবো। পৃথিবীর দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। অবশেষে গত ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান হবে। ঈশ্বর ইরানের জনগণের ভালো করুক!’’
এ নিয়ে এটি-ই যে তার প্রথম হুমকি, তেমনটা নয়। এর আগে দেওয়া তার হুমকিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণী:
ডেডলাইন ১
গত ২১শে মার্চ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবেন এবং এই হামলা শুরু করবেন সবচেয়ে বড়টি ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে।
ডেডলাইন ২
ওই ঘোষণার দুই দিন পর তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। তিনি তখন ইরানের জ্বালানি স্থাপনার ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন।
ডেডলাইন ৩
গত ২৭শে মার্চ তিনি ইরান সরকারের অনুরোধের কথা উল্লেখ করে আরও ১০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেন, যা গিয়ে দাঁড়ায় ছয়ই এপ্রিল পর্যন্ত।
৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা
শুক্রবার, ছয়ই এপ্রিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে “আরও ৪৮ ঘণ্টা” সময় আছে, এরপর তিনি ‘পুরো শক্তি প্রয়োগ করবেন।’
রবিবারের হুমকি
রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া অশালীন শব্দ সম্বলিত এক পোস্টে, তিনি পুনরায় সেই হুমকি দেন এবং বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস। মঙ্গলবার রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম।’
সর্বশেষ হুমকি
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সন্ধ্যায় ট্রাম্প ফের ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে।’