যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান নিহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমী নিহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী তেহরানের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশজুড়ে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে তাদের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তেহরান জুড়ে হামলার পরিধি ও মাত্রা আগের চেয়ে বিস্তৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ভোররাত থেকেই তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এর মধ্যে উত্তর তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটিই প্রথম নয়, এর আগেও দেশের তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে চলমান এই বিমান হামলায় এ পর্যন্ত দেশটির ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুধু রাজধানী তেহরানই নয়, এর বাইরেও ইরানের একাধিক শহর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব হামলায় ডজনখানেক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু ।
এদিকে এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির যৌথ সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্র এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, তারা এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শত্রুপক্ষকে লক্ষ্য করে এর চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।