০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৬

জ্বালানি সাশ্রয়ে নেপালে সপ্তাহে দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা

নেপালের প্রধানমন্ত্রী   © সংগৃহীত

জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব সরকারি দফতর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশটির মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

সরকারের এই বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথভাবে পরিচালিত হলে এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হতে পারে; তবে এর ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি বা শিথিলতা থাকলে তা শেষ পর্যন্ত মারাত্মক জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

নেপালের প্রশাসনিক আদালতের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দেশটির প্রশাসনিক সংস্কার পরামর্শ কমিটির সমন্বয়ক কাশি রাজ দাহাল এ বিষয়ে তার অভিমত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুই দিনের ছুটির এই সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সপ্তাহে এক দিন অতিরিক্ত ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় যানবাহন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জ্বালানি সাশ্রয় হবে। এছাড়া যেসব কর্মচারী কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকেন, তারা এই বাড়তি সময়ে স্থানীয় কৃষিকাজে ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি কর্মীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন, যা তাদের কাজের স্পৃহা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তবে এই ইতিবাচক সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন কাশি রাজ দাহাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যেসব দফতরে সেবাপ্রার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় থাকে, সেখানে দুই দিন ছুটি দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। অন্যদের ক্ষেত্রে এটি সুপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে সাধারণ সেবা প্রদানকারী অফিসগুলো ছুটির আওতায় এলেও জরুরি সেবামূলক দফতরগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নিয়ম চালুর পর অফিসের কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। কর্মচারীরা যদি কেবল হাজিরা দেওয়ার জন্য কর্মস্থলে আসেন এবং ছুটির আগের দিন জলদি চলে যান কিংবা ছুটির পর দেরিতে কর্মস্থলে পৌঁছান, তবে এই সিদ্ধান্তের কোনো সুফল মিলবে না। বরং এটি বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতাগুলোকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।