বাংলাদেশিসহ ১০৫ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেল নৌযান
ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১০৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়ে একটি কাঠের নৌযান ডুবে গেছে। নৌযান থেকে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৭০ জন এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড বাহিনী।
জীবিত উদ্ধার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ এবং তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইতালির কোস্টগার্ড এবং ইতালীয় এনজিও সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ)।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'শনিবার বিকেলে একটি কাঠের তৈরি একটি নৌযান ভূমধ্যসাগরের এসএআর (সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ) জোন-এলাকায় ডুবে গেছে। এই এলাকাটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউর (উপকূলীয় শহর) থেকে রওনা হয়েছিল এবং মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন সেটিতে। এই যাত্রীদের মধ্যে শিশু, নারী, পুরুষ— সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্বে ডুবেছে।'
ভূমধ্যসাগরের লিবীয় উপকূল থেকে বৌরি অয়েলফিল্ডের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। উদ্ধারকৃত দুই মরদেহ এবং জীবিত যাত্রীদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান। এক্সবার্তায় নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শোক জানানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জীবিত উদ্ধার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতালির কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন, খুবই কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে ডুবে গেছে তাদের নৌযানটি। সি-ওয়াচ নামের একটি জার্মান সংস্থা ভূমধ্যসাগরে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে থাকে এবং নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য তারা একটি বিমান পাঠিয়েছিল। সেই বিমান থেকে তোলা ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সাগরে উল্টে যাওয়া একটি কাঠের নৌকার তলদেশের ওপর কোনোভাবে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।
উল্লেখ্য, বৈধ নথিপত্র ব্যতীত ইউরোপে যেতে আগ্রহী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর বেশ জনপ্রিয়। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযোগকারী এ সাগরের তুরস্ক, লিবিয়া এবং মরক্কোর উপকূল থেকে নিয়মিতই ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয় অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী বিভিন্ন নৌযান। তবে 'জনপ্রিয়' এই রুটটি একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে বিপজ্জনক। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি বছরই হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর সলিল সমাধি ঘটে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন এই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে।