০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪৭

ইরান যুদ্ধে পকেট ভারী ট্রাম্পের দুই ছেলের

ট্রাম্পের দুই ছেলে   © সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে চলা উত্তেজনার সুযোগে প্রকাশ্যেই কাড়ি কাড়ি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। মার্কিন ইতিহাসে তাঁর পরিবারই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের পরিবার, যারা এই যুদ্ধের ডামাডোল কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদ গড়ার পথে হাঁটছেন। 

ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর গোলা বা ইন্টারসেপটর ভান্ডারে ব্যাপক টান পড়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে নতুন ড্রোন বিক্রির চেষ্টা করছে 'পাওয়ারাস' নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই গত মাসে একটি লাভজনক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে।

এই চুক্তির কারণে ড্রোন বিক্রি থেকে ট্রাম্পের ছেলেরা বেশ মোটা অঙ্কের টাকা আয় করবেন। তবে প্রেসিডেন্টের স্বজনদের সঙ্গে এই ব্যবসায় স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে পাওয়ারাস। তাদের দাবি, চীনা ও রুশ ড্রোন নির্মাতাদের টেক্কা দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। 

পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ বলেন, 'আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। দ্রুত (ড্রোন) তৈরি না করলে আমরা হেরে যাব। আমাদের বরং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, যারা আমাদের ওপর বিনিয়োগ করছে। (দেশের স্বার্থ) সব রাজনীতির ঊর্ধ্বে।' ভেলিকোভিচ আরও জানান, একাধিক উপসাগরীয় দেশের কাছে তাঁরা ড্রোনের সক্ষমতা উপস্থাপন করছেন এবং তাঁদের ড্রোন ইরানের হামলা ঠেকাতে সক্ষম।

পাওয়ারাসের সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়ে এরিক ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, 'ড্রোন হচ্ছে আগামী দিনের প্রযুক্তি। যেসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বে আমার আস্থা রয়েছে, সেগুলোতে বিনিয়োগ করতে পেরে আমি গর্বিত।' 

তবে হোয়াইট হাউসের মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তাঁর ছেলেরা হোটেল এবং গলফ ক্লাবের পারিবারিক ব্যবসা বাদেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ভেঞ্চার, রকেটের যন্ত্রাংশ এবং বিরল খনিজের ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। ট্রাম্প পরিবারের সর্বশেষ লক্ষ্য হলো পেন্টাগনের বরাদ্দ করা ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সশস্ত্র ড্রোনের কারখানা গড়ে তোলা। 

ট্রাম্প প্রশাসন চীন থেকে এ ধরনের ড্রোন আমদানি নিষিদ্ধ করায় এই বড় সুযোগটি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্পের ছেলেরা গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া না দিলেও আগে বলেছিলেন, তাঁদের বাবার প্রথম মেয়াদে কোনো সুবিধা না নেওয়ার জন্য তেমন প্রশংসা করা হয়নি, তাই এবার নিজেদের দমন করার কোনো প্রয়োজন বোধ করছেন না তাঁরা।