০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৩

হরমুজ প্রণালি সচলে যে ৩৫ দেশের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাজ্য

হরমুজ প্রণালি  © সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ইরান নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সচলে ৩৫ দেশের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই জরুরি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নেবে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিত থাকার কথা নেই বলে জানিয়েছে তারা।

বুধবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বৈঠকের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা মোটেও সহজ কোনো কাজ হবে না।

স্টারমার জানান, ‘এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা, সেখানে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ মূল্যায়ন করা।’

এছাড়া বৈঠকের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত এই এলাকায় প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে বসার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের জেরে তেহরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথটি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে তেল ও গ্যাস বাজারে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো হরমুজ প্রণালি সচল করার এই কূটনৈতিক উদ্যোগে সামিল হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এদিকে হরমুজ প্রণালি সচল করতে সম্মিলিত বাহিনী প্রেরণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘নিজেদের জ্বালানি সংকটের সময়ও তারা সাহসের সাথে লড়তে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। কঠিন কাজটি যুক্তরাষ্ট্র একাই শেষ করেছে এবং এখন থেকে অন্য দেশগুলোকে নিজেদের জ্বালানি সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।’