৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে মার্কিন হামলা

ইরানের ক্ষতিগ্রস্থ বিমান   © সংগৃহীত

ইরানের একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী বিমানে মার্কিন হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে মার্কিন হামলার ফলে মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানটির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাওয়ার কথা ছিল। ভারত সরকারের দেওয়া অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করে আনার কথা ছিল। তবে এই হামলার ফলে মানবিক সহায়তা ও ওষুধ সরবরাহের মিশন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘এই বিমান সাধারণ মানুষের জন্য ভারত থেকে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করে আনছিল। মাশহাদ বিমানবন্দরে হামলার ফলে বিমানটি উড়াল দেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই) তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। বিমানটি ১ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অবতরণ করার কথা ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রথম চালান পাঠানো হয়েছিল।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সহায়তা মিশনটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাহান এয়ার বেসরকারি একটি ইরানি বিমান সংস্থা, যা মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া-দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে।

ইরানি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ‘মানবিক সহায়তা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একটি বিমানের ওপর হামলাকে আমরা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছি। বিমানটি মেরামত করে পুনরায় মিশনে পাঠানো সম্ভব কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মাশহাদ বিমানবন্দরের এই হামলার ফলে কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং বিমানটি এখনো উড়াল দেওয়ার উপযুক্ত নয়।

ভারত ও ইরানের মধ্যকার ত্রাণ বিনিময় প্রক্রিয়াও চলমান যুদ্ধের কারণে বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে ওষুধ পাঠানোর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও আঞ্চলিক রাজনীতি সেই প্রক্রিয়াকে ধীর করছে। যদি বিমানটি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারে, তবে ইরানের চিকিৎসা সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মাশহাদ বিমানবন্দরের হামলা নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।