২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০

তেল আবিবে ইরানের মাল্টি-ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহত ৫

মধ্যে ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের মিসাইল   © সংগৃহীত

ইরানের চালানো পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিব ও এর আশপাশের এলাকায় ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে। খবর আমাদুলু এজেন্সি। 

এদিন ভোরে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোম (MDA) জানিয়েছে, ‘গুশ দান’ বা বৃহত্তর তেল আবিব এলাকায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের একটি মাল্টি-ওয়ারহেড বা একাধিক মুখবিশিষ্ট মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ এবং স্প্লিন্টার তেল আবিব ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি স্থানে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে তেল আবিব, রামাত গান এবং গিভাতাউয়িম এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 

আহতের বিষয়ে মধ্য ইসরায়েলে ২ জন এবং বিয়ারশেবা এলাকায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের বর্তমানে সোরোকা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, তেল আবিবের অন্তত ১০টি ভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ আছড়ে পড়েছে, যার ফলে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হলে সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় ঢেউয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে; যার প্রথমটি দক্ষিণ ইসরায়েল এবং পরেরটি মধ্যাঞ্চলকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। জানা গেছে, ইরানের ইসফাহান ও খুজেস্তানের ইস্পাত কারখানা এবং আরাকের ‘হেন্দাব ভারী পানি কমপ্লেক্সে’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।

হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্ক সংকেত বা সাইরেন প্রথমে দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমি এলাকায় এবং পরবর্তীতে তেল আবিবসহ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে বেজে ওঠে। প্রথম দফার হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইরান আবারও দক্ষিণ ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়, তবে দ্বিতীয় দফার এই হামলায় এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ইরানের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে (যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে) ছড়িয়ে পড়েছে, যা জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।