২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়াচ্ছে আরও এক দেশ!

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এবার ইয়েমেন থেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে ইসরায়েল। 

শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত হুতি গোষ্ঠীর সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এই আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র এবং বিয়ার শেবা এলাকার আশপাশে তৃতীয়বারের মতো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। যদিও ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণাধীন ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এখনও এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেনি। বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে এর আগে হুতিরা সরাসরি এমন আক্রমণ চালায়নি।

সংঘাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায় যখন দুবাই থেকে খবর আসে যে, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা 'বিস্তৃত ও তীব্র' করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এই হামলায় বেশ কিছু মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। এছাড়া সেখানে থাকা বেশ কিছু যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই মানবিক দিক বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। যুদ্ধের এক মাস পূর্তির প্রাক্কালে জাতিসংঘের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে মানবিক সহায়তা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সবুজ সংকেত দিয়েছে। জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি এ বিষয়ে জানান যে, তারা পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং সারের এক-তৃতীয়াংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করে, যার সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ইরানের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছাতে সহায়ক হবে।’ এর আগে যুদ্ধের কারণে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল জাতিসংঘ।