ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত ফয়সাল ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিল এনআইএ
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। দিল্লির একটি আদালত তদন্ত সংস্থার আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এর আগে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুইজনকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ। ২৪ মার্চ তাদের আদালতে হাজির করা হলে সরকারি আইনজীবী রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, 'হাদি হত্যার সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র জানতে দুই অভিযুক্তকে বিশদে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তার জন্য সময় লাগবে।' পরে বৃহস্পতিবার আদালত সেই আবেদন মেনে নিয়ে ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আটককৃত ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), পটুয়াখালির বাসিন্দা। অপর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের (৩৪) বাড়ি ঢাকায়। গত ৭ মার্চ গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ।
গ্রেপ্তারের পর এসটিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা শেষে বনগাঁ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থানস্থলে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ফিলিপ সাংমা নামের এক দালালকেও গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তার সহায়তায়ই অভিযুক্তরা ভারতে প্রবেশ করেছিল। বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি গত ডিসেম্বরে এক জনসভায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
হাদির মৃত্যুর পর ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকেরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ দুই সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-এ হামলার ঘটনাও ঘটে, যেখানে ভাঙচুর চালানো হয়।এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যে চার্জশিট দেয়, তাতে ফয়সাল ও আলমগীরকে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদসূত্র: আনন্দবাজার