২৬ মার্চ ২০২৬, ২২:১২

শান্তি আলোচনায় ইরান সম্মত হওয়ার ‘জোরালো সম্ভাবনা’ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে ইরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে সই করানোর ব্যাপারে ‘জোরালো সম্ভাবনা’ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বুধবার (২৫ মার্চ) মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি নিশ্চিত করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে।

উইটকফ বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ইরানকে এটি বোঝানোর চেষ্টা চলছে যে, বর্তমানে তাদের সামনে শান্তি চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো ভালো বিকল্প নেই। যুদ্ধের পথ বেছে নিলে কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসই বাড়বে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই চুক্তিতে আসার সম্ভাবনা প্রবল।’

মার্কিন দূত অভিযোগ করেন, ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে বারবার দেরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি মনে করেন, ইরান আসলে এই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার একটি পথ খুঁজছে। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক পক্ষ এই সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।

বৈঠকে উইটকফ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানি আলোচকরা মার্কিন পক্ষকে জানিয়েছেন যে, তাদের কাছে বর্তমানে ৪৬০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে অন্তত ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে চরম অবিশ্বাস রয়েই গেছে। গত এক বছরে দুইবার আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলোচনার চলাকালীন ভয়াবহ বিমান হামলার মাধ্যমেই বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান এখন যেকোনো মার্কিন প্রস্তাবকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে।