সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইরানকে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবে ইরানকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি দ্রুত আলোচনায় না বসে, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে যেখান থেকে আর ‘ফিরে আসার পথ’ থাকবে না।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও প্রকাশ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বলছে, তবে পর্দার আড়ালে ইরানি কর্মকর্তারা এটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, সামরিকভাবে বিপর্যস্ত ইরান এখন একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে। তিনি লেখেন, ‘ইরানি আলোচকরা বেশ অদ্ভুত। তারা চুক্তির জন্য আমাদের কাছে আকুতি জানাচ্ছে, অথচ জনসমক্ষে বলছে তারা কেবল আমাদের প্রস্তাব ‘বিবেচনা’ করছে। তারা ভুল করছে! সময় শেষ হওয়ার আগেই তাদের সিরিয়াস হওয়া উচিত, কারণ এরপর যা ঘটবে তা মোটেও সুখকর হবে না।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছে, তবে সেটিকে ‘আলোচনা বা সমঝোতা’ বলতে তিনি নারাজ। আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার সরকার যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপে অংশ নেয়নি এবং নেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চরম হুঁশিয়ারি’ এবং ইরানের ‘অস্বীকৃতি’—দুই মেরুর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন ইরান পরাজয়ের মুখে, অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে। এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই কতদিন চলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।