২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩

ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

মার্কিন এফ–১৮ যুদ্ধবিমান  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই দাবি করে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। তবে ইরানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।’ তারা ইরানের দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) আইআরজিসি জানায়, তারা একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হামলার স্থান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়। এরপর বিমানটি অস্থির হয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ার মতো কিছু বের হতে দেখা যায়।

এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের আনুষ্ঠানিক নাম এফ/এ-১৮ হর্নেট বা সুপার হর্নেট। এটি বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়ন সক্ষম বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন কোর নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। আরব সাগর ও বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ থেকে এসব যুদ্ধবিমান পরিচালিত হয়।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বাস্তবতা মেনে পরাজয় স্বীকার করে চুক্তিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তা না হলে দেশটিতে আরও ভয়াবহ আঘাত হানা হতে পারে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করছে, বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধে সম্মত হতে হবে।

সংলাপের কথা চললেও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে আইআরজিসি তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলের সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের দাবি, ডিমোনা ও হাইফায় চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই সঙ্গে হিজবুল্লাহও ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে। তাদের রকেট মেতুলা, দাফনা ও নাহারিয়া এলাকায় আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানি ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দরের আশেপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এর জবাবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব দাবি করেছে, ইরানের অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে কয়েক দফা বোমা বর্ষণ করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে আগ্রাসন আরও বাড়িয়েছে ইসরাইল সরকার। দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক এফ-১৫ এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছিল, তবে সেসব দাবিও অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের শত্রুরা দেশটির একটি দ্বীপ দখলের ষড়যন্ত্র করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রু পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’