২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল-আলমগীরকে দিল্লি নিয়ে গেল তদন্ত সংস্থা

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী  © সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ দিল্লিতে নিয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরের আদালতের অনুমতি নিয়ে সোমবার রাতে তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নেওয়া হয়। সেখানে এনআইএর বিশেষ আদালতে তাদের তোলা হবে।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে এনআইএ ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে রাতেই কলকাতা থেকে তাদের দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয় বলে ভারতীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ আদালতে তোলা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

এর আগে ২২ মার্চ একই আদালতে দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে এনআইএ। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে ভারতে গ্রেপ্তার তৃতীয় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেনি সংস্থাটি। পরদিন ২৩ মার্চ নতুন করে আদালতে আবেদন করে এনআইএ জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না। এরপর আদালত ফয়সাল ও আলমগীরকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।

রবিবার (২২ মার্চ) বিচারক নিশান মজুমদার একই মামলায় ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ও এনআইএ কারাগারে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তাদের ২ এপ্রিল আবার আদালতে তোলার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাতে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। পরদিন ৮ মার্চ আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে ২২ মার্চ তাদের আবার বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শারীরিক পরীক্ষা করাতে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব, সকালে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী

সেদিন আদালতে নেওয়ার পথে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম দাবি করেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ সাংবাদিকেরা তাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গুলি করতে দেখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, যদিও পরে ভারতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

এদিকে একই মামলায় অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমাকে আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে ২১ মার্চ ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয় এবং ৩ এপ্রিল আবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাদি হত্যা মামলার এই দুই আসামিকে পালিয়ে আসতে সাহায্য করার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ’র ১৬ ও ১৮ ধারায় ফয়সাল করিম ও আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। প্রমাণিত হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এরপর পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন।

পরে গত ৬ জানুয়ারি এই মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তিন অভিযুক্তের শিগগিরই বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।