ইরানের হামলায় এলপিজি সরবরাহে 'ফোর্স মেজিউর’ ঘোষণা করল কাতার
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন মুলক হামলা এবং পাল্টা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কাতার এনার্জি তাদের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে 'ফোর্স মেজিউর' (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে। খবর আল জাজিরার
জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের মতো বড় গ্রাহকদের এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজিউর’ ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি। এই ঘোষণার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রে ইরানি হামলায় দেশটির মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার এনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাবে কাতার। এ হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে ২টি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইড সুবিধার একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে প্রতি বছরে ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজার টালমাটাল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ হুমকির মুখে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে তাদের সদস্য দেশগুলোকে শীতকালীন গ্যাস মজুত করার তাগিদ দিয়েছে, কারণ যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পুনরায় হামলার নির্দেশ দেন, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘ফোর্স মেজিউর’ হলো এমন একটি আইনি ধারা যা কোনো কোম্পানিকে তখনই ব্যবহার করতে দেয় যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বড় ঘটনার কারণে তারা চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে অসমর্থ হয়। এর ফলে কাতার এনার্জি সরবরাহ করতে না পারলেও আইনি দণ্ড থেকে রেহাই পাবে।