রাতভর ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি কিছুক্ষণ আগে ( ০৪:৩০ জিএমটি) মধ্য ইসরায়েলের একটি খোলা স্থানে পড়ে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করার পরপরই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এতে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশেও সতর্ক সংকেত শোনা যায়।
হামলার সময় আল কুদস (জেরুজালেম), হাইফা, তেল আবিব এবং পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাইফা বন্দরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল। যেটি বিস্ফোরণের পর একাধিক ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়।
নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের একাধিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।
হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের একটি স্থানে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়ও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাতভর হামলার ঘটনায় স্প্লিন্টারের আঘাতে একজন আহত হয়েছেন, তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।